ইকোপার্ক কি? বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত ইকোপার্কসমূহ সম্পর্কে লিখ

বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন ইকোপার্কসমূহ সম্পর্কে লিখ

ভূমিকা: বাংলাদেশের মোট আয়তনের ২.৫২ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি, যা দেশের মোট আয়তনের ১৭.০৩ ভাগ। ২.৫২ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমির মধ্যে বনবিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১৫২ হেন্দ্রর যা দেশের মোট আয়তনের ১০.৬ ভাগ। জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন ৭৩ মিলিয়ন হেক্টর ইউএসএফ ল্যান্ড এবং অবশিষ্ট ২৭ মিলিয়ন হেক্টর গ্রামীণ বনাঞ্চল হিসেবে পরিগণিত। ইকোপার্ক এসব বনাঞ্চলের একটি।

ইকোপার্ক কি? বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত ইকোপার্কসমূহ সম্পর্কে লিখ

ইকোপার্ক:

ইকোপার্ক (Ecopark) হলো Ecological Pat এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে জীববৈচিত্রোর উপর কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার না করে বিনোদন উদ্যান গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বনাঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে চিহ্নিত করে একটি নিবিড় ব্যবস্থাপনার আওতায় তাকে নিয়ে আসা হয়। এখানে জীববৈচিত্র্য রক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। জীববৈচিত্র্য রক্ষ্য করীর জন্য উদ্ভিদের বৈরিতা রপ বলা হয় Flora এবং প্রাণিবৈচিত্র্য রক্ষার অংশকে বলা হয় Fauna। এজন্য বলা হয় এখানে Flora Fauna এর সমন্বয় ঘটানো হয়। অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিতভাবে বায়ুসংস্থান গড়ে তোলার উপর জোর দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক Ecotourism Society ইকোপার্কের সংজ্ঞায়ন করতে বলেন, it is not a simple marginal activity to france protection of the environment, but it is a major of the national economy

বাংলাদেশের ইকোপার্কসমূহ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে বাংলাদেশের বন বিভাগ নিম্নোক্ত ৯টি ইকোপার্ক স্থাপন করেছে। দেশের অভ্যন্তরে এগুলো হলো-

১. সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক:

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ রিজার্ভফরেস্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত চিরসবুজ বনাঞ্চলে ১৯৯৯ সালে ৮০৬ হেক্টর জায়গা নিয়ে ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্ক। পার্কের প্রধান গৈট হতে ৫ কি মি. ভিতরে চন্দ্রনাথ শিবমন্দির অবস্থিত। মন্দিরের ভিতর থেকে ২৫২টি সিঁড়ি এবং পাহাড়ের পাদদেশে ১৬০০টি সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরে উঠতে হয়। ফাল্গুনে শিবসংক্রান্তিতে দেশ বিদেশের বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীদের কীর্তনে মুখর হয়ে পড়ে পুরো অরণ্য। পাহাড়ের উচ্চতা ৪১০ মি. সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সব ঝরনা এক হয়ে তৈরি হয়েছে সহস্রধারা ও সুপ্তধারার মতো প্রবহমান প্রাকৃতিক ঝরনা। পার্কের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫৪ রকম চিরসবুজ উদ্ভিদ রয়েছে। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর সমাহার।

২. বাঁশখালী ইকোপার্ক:

চট্টগ্রাম শহর হতে ৫০ কি.মি দক্ষিণ-পশ্চিমে বাঁশখালী উপজেলার বামেরছড়া ও ভানেরছড়া এলাকার সমন্বয়ে ২০০৩ সালে ১০০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক গঠিত হয়। এটি জলদি অভয়ারণ্যের রেঞ্জের জলদি ব্লকে অবস্থিত। ছোট ছোট পাহাড় ও টিলা নিয়ে গঠিত বামেরছড়া ও ভানেরছড়া বাঁধ তৈরির ফলে উক্ত এলাকায় অপরূপ কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। এক সময় এই এলাকা প্রাকৃতিক বন ও জীবজন্ততে পরিপূর্ণ ছিল। বর্তমানে কালের বিবর্তনে তার আনকটিই মলিন হয়ে গেলেও পরবর্তীতে বর্তমানে পার্ক এলাকায় ৬৭৪ হেক্টর বনভূমিতে বাফার, ভেষজ বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর বাগান করা হয়েছে।

৩. মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক:

পাথরিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের পশ্চিম পাদদেশে অবস্থিত জলপ্রপাতকে ঘিরে ২০০১ সালে ৫০০ একর জায়গাজুড়ে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক তৈরি হয়েছে। মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ৭০ কি.মি, উত্তরে এবং বড়লেখা উপজেলা কাঁঠালতলী বাজার থেকে ৮ কি.মি. পূর্বে অবস্থিত। পার্কের পাশ দিয়ে মাধবছড়া নামে একটি ঝরনা প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম পাহাড়ি ঝরনা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও পরীবৃত্ত এখানেই অবস্থিত। এছাড়া আশেপাশে অনেক টিলা অবস্থিত। পার্কে নানারকম প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও বৃক্ষ রয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য পরবর্তীতেও বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এখানে বিচিত্র রকমের পাখি ও বন্যপ্রাণীও দেখতে পাওয়া যায়।

৪. মধুটিলা ইকোপার্ক:

শেরপুর জেলার নলিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের সমশচূড়া ও পোড়াগাঁও মৌজার ৩৮০ একর জায়গা জুড়ে ১৯৯৯ সালে মধুটিলা ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমানাসংলগ্ন গারো পাহাড়ের পাদদেশে দিগন্তজোড়া সবুজ বনরাজি বেষ্টিত এবং পাহাড়, ঝরনা, টিলা ও লেক সুশোভিত ইকোপার্কটি পর্যটকদের জন্য আকর্যণীয় করে তোলা হয়েছে। এখানে নানা ধরনের জানা-অজানা গাছের সাথে সাথে রয়েছে নানা ধরনের পশু ও প্রাণিবৈচিত্র্য।

৫. বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক:

পরিবেশ ও প্রতিবেশগত উন্নয়ন এবং বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর গাইড বাঁধ এলাকা সংরক্ষণের নিমিত্তে ২০০৭ সালে ১২৪ একর জায়গা নিয়ে সেতুর পশ্চিমপাড়ে বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়। ১৯৯৮ সালে সেতু নির্মান কাজ শেষ হবার পর পরই সেতুবিভাগ পারিপার্শ্বিক এলাকায় বনায়ন শুরু করে। সামাজিক বনায়ন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারক, শোভাবৃদ্ধিকারী গাছ ও ফুলের চারা রোপণের মাধ্যমে এখানে বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

৬. কুয়াকাটা ইকোপার্ক:

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড় উপজেলায় গঙ্গামতি লতাচাপলী, খাজুরা এবং বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার টেংরাগিরি মৌজায় ১৩৯৮৪ একর জায়গা নিয়ে ২০০৫ সালে কুয়াকাটা ইকোপার্ক নির্মিত হয়। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, বঙ্গোপসাগর, রামনাবাদ নদী, আন্ধারমানিক নদী, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনার সন্নিকটে এই ইকোপার্ক অবস্থিত। এখানে আগেই অনেক ধরনের বৃক্ষ ছিল। পরে আরও অনেক ধরনের বৃক্ষ রোপণ করে ইকোপার্ককে আরও সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

৭. টিলাগড় ইকোপার্ক

সিলেট জেলার সদর থেকে পূর্ব দিকে ৮ কি.মি. দূরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন টিলাগড় রিজার্ভ ফরেস্টের ১১২ একর জায়গা নিয়ে ২০০৬ সালে টিলাগড় ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়েছে। ইকোপার্কের মধ্য দিয়ে একটি ছড়া প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও টিলাগড় বিজার্ভ ফরেস্টের মধ্যে ছোট বড় কয়েকটি টিলা নিয়ে পার্কটি অবস্থিত। এখানে অনেক ধরনের প্রাণী ও বৈচিত্র্যময় বৃক্ষরাজি দেখা যায়।

৮. জাফলং গ্রিনপার্ক:

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার চৈলাখেল সংরক্ষিত বনভূমিতে জ্যাফলং গ্রিনপার্ক অবস্থিত। এই পার্কটি ৫৩৭ একর জায়গা নিয়ে ২০০৮ সালে স্থাপিত হয়। গভীর সবুজ বন বনানী এবং সিলেট তামাবিল সড়কের দুই পাশের নয়নাভিরাম বাগান, ডাউকি নদীর স্বচ্ছ জলে বহমান পাহাড়ি ঝরনা-সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার জাফলং।

৯. বড়শীজোড়া ইকোপার্ক:

মৌলভীবাজার শহরের ১ কিমি দক্ষিন-পশ্চিমে ৮৮৭ একর সংরক্ষিত বনভূমির সমন্বয়ে ২০০৬ সালে বড়শীজোড়া ইকোপার্ক গঠিত হয়। এই বনভূমি ১৯১৬ সালে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষিত হয়। এই ধনভূমিতে রয়েছে অনেক রকম গাছ এবং অনেক প্রাণিবৈচিত্র্য।

১০. রাজেশপুর ইকোপার্ক:

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র ২.২ কিলোমিটারের মধ্যে এই রাজেশপুর ইকোপার্ক অবস্থিত। এটা কুমিল্লা জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কুমিল্লা সদর জোড় কানন উপজেলায় অবস্থিত এই বনভূমি। এই ইকোপার্ক ত্রিপুরা রাজ্যের গহীন অরণ্যের সাথে সংযুক্ত। তাই মাঝে মাঝে বাঘ, সিংহ, হরিণের মতো পশুদের দেখা মেলে এই ইকোপার্কে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ইকোপার্ক শুধু বন ব্যবস্থাপনার অংশ নয়। বরং দেশ-বিদেশি ভ্রমণ ও প্রকৃতিপ্রেমী লোকজনের বিনোদনের পাশাপাশি ঐ বিশেষ প্রতিবেশ বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। সেই সাথে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জনমনে সচেতনা সৃষ্টি হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অনার্স মাস্টার্স কোর্সের ফরমপূরণ নিয়ামাবলি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অনার্স মাস্টার্স নিয়মিত অনিয়মিত প্রাইভেট কোর্সের ফরমপূরণ নিয়ামাবলি

ভূমিকা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরমপূরণের সময়সীমা এবং তারিখ প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সাধারণত বিভিন্ন সেমিস্টারের জন্য এই সময়সীমা নোটিশ আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে, সময়সীমা ফি, জরিমানাসহ সকল বিষয় উল্রেখ থাকে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অনার্স মাস্টার্স কোর্সের ফরমপূরণ নিয়ামাবলি

ফরমপূরণ নিয়ামাবলী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক নং: জাতীয় বি:/ ডিগ্রি/ অনার্স/ মাস্টার্স/01/01/26 তারিখ:13/01/2026 এমন নোটিশের মা‌ধ্যমে ফরমপূরণ সংক্রান্ত সকল তথ্য দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নোটিশ প্রকাশ করে এবং কোন সাল হতে কোন সালের শিক্ষার্থী ফরমপূরণ করতে পারবে ফেইল করা বিষয়ের সাথে কতটি মান উন্নয়ন বিষয় পরীক্ষা দিতে পারবে সকল কিছু নোটিশে উল্লেখ থাকে।

ফরমপূরণের সময়সীমা ও তারিখ

উদাহরণস্বরূপ: ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স পরীক্ষার ফরমপূরণ অক্টোবর মাস হতে ডিসেম্বর বা জানুয়ারী মাসের মধ্যে হয়ে থাকে।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়ে থাকে।

ফি সংক্রান্ত তথ্য

ফরমপূরণের ফি ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স বিষয়, মাঠকর্মের উপর ভিত্তি করে  নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ হয়ে থাকে। সরকারি কলেজসমূহে (৩০০০-৬০০০)ও বেসরকারি কলেজসমূহে ৭০০০-১২০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ফরমপূরণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র প্রয়োজন হয় এগুলি সাধারণত:
রেজিস্ট্রেশন নম্বর: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে কোর্সে অধ্যয়নরত সেই কোর্সের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের নম্বর।
ছবি: পাসপোর্ট সাইজের ছবি, যা ফরমে আপলোড করতে হবে বর্তমানে এটি প্রয়োজন হয় না।

অনলাইন ও অফলাইন ফরমপূরণের প্রক্রিয়া

১. অনলাইন ফরমপূরণ:

ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট লগইন তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।
ওয়েবসাইটে লগইন প্রক্রিয়া: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট https://www.nu.ac.bd/online-form-fill-up.php বা http://ems.nu.ac.bd/ গিয়ে শিক্ষার্থী (student login) লগইন অথবা http://ems.nu.ac.bd/student-login এ সরাসরি প্রবেশ করতে হবে। তারপর আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন- আপনার রেজিস্ট্রেশেন নং দিয়ে লগইন করতে হবে। তারপর সেখানে অপানার তথ্য সম্বলিত একটি প্রফাইল দেখা যাবে সেখানে থ্রি ডটে ক্লিক করলে প্রোফাইল ও ফরমপূরণ পূরণ নামে একটি অপশন পাবেন তখন ফরমপূরণ লেখাতে ক্লিক করলে আপনার নাম, রেজি. নং বিষয় নাম ও বিষয় কোডসহ সকল কিছু দেখতে পারবেন এরপর একটু নিচে আপনার মোবাইল নং লেখার অপশন পাবেন সেখানে আপনার সচল মোবাইল নং দিয়ে সাবমিট লেখা আসবে সেটায় ক্লিক করবেন সব ঠিক থাকলে ওকে করবেন। তারপর এপ্লিকেশন ডাউনলোড অপশন হতে পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে নিবেন। আপনার অনলাইন ফরমপূরণ কার্যক্রম শেষ।

২. অফলাইন ফরমপূরণ:

সংশ্লিষ্ট কলেজ বা অফিস থেকে অফলাইন ফরম সংগ্রহ করুন। ফরমের সব জায়গায় সঠিক তথ্য লিখুন। ফরম জমা দেওয়ার নির্ধারিত জায়গায় জমা দিন এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করুন রশিদ সংগ্রহ করুন।

৩. এনরোলমেন্ট ফরমপূরণ

এনরোলমেন্ট ফরমপূরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে নিশ্চিত করে। এটি সাধারণত প্রথমবার পরীক্ষার আগে বা পরবর্তীতে করা হয়, এবং এতে সঠিক তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক।

পেমেন্ট প্রসেস:

১. অনলাইন পেমেন্ট:

বর্তমানে সকল সরকারি কলেজে অনলাইন পেমেন্ট করার সিস্টেম চালু হয়েছে। সেক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ফি প্রদান করতে পারবেন। কিছু কলেজে ওয়েবসাইট হতে সরাসরি পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক কার্ড) ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।

২. এডুকেশন ফি পেমেন্ট

কলেজের ক্ষেত্রে সরাসরি বিকাশ, নগদ, রকেট এর এ্যাপস এ লগইন করে এডুকেশন ফি অপশনে প্রবেশ করে আপনার কলেজের নাম দিয়ে সার্চ করলে কলেজের লোগো সহ আসবে তারপর মাস ও সাল নির্বাচন করে স্টুডেন্ট আইডি এর স্থানে রেজিস্ট্রেশন নং দিয়ে ক্লিক করলে আপনার নাম ও নির্ধারিত পরিমাণ টাকা দেখাবে আপনার একাউন্টে যথেষ্ট পরিমাণ ব্যালেন্স থাকলে তারপর উক্ত একাউন্টের পিন নাম্বার দিয়ে সাবমিট করুন আপনার ফি পরিশেধ হয়ে যাবে এরপর একটি মেসেজে পাবেন অথবা রিসিভি অপশন হতে পেমেন্ট রিসিভ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।

৩. ব্যাংক ডিপোজিট:

কিছু কলেজে নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সরাসরি ফি জমা দিতে হবে।

৪. কলেজে জমা:

কিছু কিছু কলেজে সরাসরি রশিদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে থাকে। 

ফরম জমাদান:

বিভিন্ন কলেজে চেক-আপের জন্য কিছু ফরম কলেজও জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে।
অনলাইন ফরমপূরণ করার পর ডাইনলোডকৃত ফরমটি রঙিন কালারে প্রিন্ট করে নিন এবং শিক্ষার্থী স্বাক্ষরের স্থানে আপনার স্বাক্ষর করুন এবং পেমেন্ট স্লিপটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন তারপর আপনার রেজিস্ট্রশন কার্ডের ফটোকপি, অনলাইন আবেদন ফরম ও পেমেন্ট রিসিভ পেপারটি আপনার কলেজে নির্ধারিত সময়ের মধ্য জমা দিবেন। যদি অনলাইন সিস্টেম হয় তবে অনেক সময় কলেজে জমা দিতে হয় না তখন এডমিট কার্ড পাওয়ার আগ পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখুন।

বাংলাদেশের বনভূমিতে আধিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর

বাংলাদেশের বনভূমিতে আধিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ

ভূমিকা: বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম বনভূমিবেষ্টিত পার্বত্য অঞ্চল। বাংলাদেশের মোট আয়তনের এই বনভূমির পরিমাণ খুবই সামান্য। অধিবাসী জনগণ আবার বিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক কারণে দেশের মূলধারা হতে বিচ্ছিন্ন প্রায়। নিম্নে প্রশ্নালোকে বাংলাদেশের বনভূমিতে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হলো।

বাংলাদেশের বনভূমিতে আধিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ


বনভূমিতে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের পদক্ষেপ:

বাংলাদেশ বিশ্বপরিমণ্ডলে আয়তনে ক্ষুদ্র একটি দেশ। এই দেশের আয়তনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ মাত্র ছয় শতাংশ, যা এই বনভূমির উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই সরকার কীভাবে বনভূমিকে আরো বেশি উৎপাদনশীল করা যায় সে ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো-

১. বনভূমি রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড:

বনের সংরক্ষণ ও বনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদিবাসী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতভাবে তাকে বলা হয় বনের অধিকার।

(ক) আদিবাসী সম্প্রদায় যে বনভূমিতে বসবাস করে সেই বনভূমির উপর তাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা এর আওতায় থাকে। যথা-

  • বনে গবাদিপশু চারণ: প্রত্যেকটি আদিবাসী যাতে করে বনে গবাদিপশু চারণ করতে পারে সেই অধিকার দিতে হবে।
  •  ফল-ফসল, সবজি চাষের অধিকার: পার্বত্য আদিবাসী যাতে করে তারা নিজেরা ফল-ফসল ও সবজি চাষ করতে পারে সেই অধিকার দিতে হবে।
  • জ্বালানি সংগ্রহ: আদিবাসী লোকেরা প্রত্যেক বন থেকে কাঠ সংরক্ষণ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। কেননা আদিবাসী লোকেরা সবসময় কাঠ কেটে তাদের জীবন পরিচালনা করে থাকে।
  • কৃষিকাজ অধিকার: আদিবাসী লোকেরা যাতে করে বনে কৃষিকাজ করতে পারে সেই অধিকার দিতে হবে। কেননা বনে কৃষি কাজ করে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে হয়।


(খ) শিকার সংগ্রাহক সমাজ যে পর্যন্ত চারণ করবে সে পর্যন্ত বনভূমি তাদের বনভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

(গ) রাষ্ট্র কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইলে ঐ বনভূমিতে বসবাসরত আদিবাসীদের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে অন্যত্র সমপরিমাণ বনভূমিতে তাদের পুনর্বাসিত করতে হবে।

(ঘ) আধিবাসীদের যেকোনো ধর্মীয় ঐতিহ্যগত যা সাংস্কৃতিক প্রয়োজন তাদের বনভূমি যথেষ্ট ব্যবহারের স্বাধীনতা দিতে হবে।

২. সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ:

বাংলাদেশে বসবাসরত অধিকাংশ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে। ফলে তারা জীবন ও জীবিকার জন্য নানাভাবে বনভূমির উপর নির্ভরশীল। ১৮৭১ সাল থেকে ১৮৮৫ পর্যন্ত পার্বত্য এলাকায় তিন-চতুর্থাংশ ভূমি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সরকারি বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। অবশিষ্ট বনভূমির মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট বনভূমি ছাড়া অন্য সমগ্র বনভূমি সরকারি খাসজমি হিসেবে নির্দিষ্ট হয়। সরকারি জমির এক-চতুর্থাংশ আবার নির্দিষ্ট সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে তাতে পাহাড়ি বনজীবী মানুষের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। আর বাকি বনাঞ্চল পাহাড়িদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শুষ্ক মৌসুমে যখন ফসল উৎপাদন হ্রাস পায় তখন বিভিন্ন বনজীবী দরিদ্র মানুষ এখানে উৎপাদিত খাদ্য পণ্যসমূহ বিক্রয় করেও জীবিকানির্বাহ করতে পারে। আর প্রতিটি সাধারণ বনে কি চাষ করা হবে মৌজা প্রধানদের সাথে নিজস্ব মৌজাভিত্তিক জনগণের মতামত বিনিময়ের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত হয় এক-একটি VEF-এ একেক ধরনের নিয়ামক থাকলে তা মোটামুটি নিম্নরূপ-

(ক) VEF এলাকায় কোনো আগুনের কাজ করা যাবে না।

(খ) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত VEF এলাকায় সাধারণের প্রবেশ নিষেধ।

(গ) অনুমতি ছাড়া বাঁশ কর্তন করলে জরিমানা দিতে হবে।

(ঘ) ফল, সবজি, বাঁশ পরিণত না হলে কাটা নিষেধ।

(ঙ) মুনাফার ভিত্তিতে VEF পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ।

(চ) বনের বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা।

(ছ) VEF এলাকায় সব ধরনের শিকার নিষিদ্ধ।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসী নৃগোষ্ঠীগুলোর জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণভাবে বনভূমির উপর নির্ভরশীল। তাই বন রক্ষার জন্য সরকার কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যার ফলে বনগুলো এখনো তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছে।

উপজাতির বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ। জাতি ও উপজাতির মধ্যে পার্থক্য লিখ

উপজাতির বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং জাতি ও উপজাতির মধ্যে পার্থক্য

ভূমিকা: উপজাতি হচ্ছে ছোট বা ক্ষুদ্র জাতি। উপজাতি বলতে এমন একটি সামাজিক গোষ্ঠী, বোঝায় যাদের নিজস্ব একটি বিশেষ ভাষা ও সংস্কৃতি আছে, যা অন্য উপজাতি থেকে ভিন্নতর। যেসব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আদিম জীবনযাপনপ্রণালিতে অভ্যস্ত তারা উপজাতি (Tribe) বলে পরিচিত। উপজাতিরা কোনো না কোনো রাষ্ট্রীয় পরিসীমায় নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা নিয়ে বসবাস করে।

উপজাতির বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ। জাতি ও উপজাতির মধ্যে পার্থক্য লিখ


উপজাতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:

বিভিন্ন নৃবিজ্ঞানী উপজাতিসংক্রান্ত আলোচনায় এমন সব ভিন্ন ভিন্ন উক্তি, করেছেন যে, সেগুলো থেকে একটি চূড়ান্ত বা স্থির সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। ফলে চূড়ান্তভাবে উপজাতির বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা কঠিন কাজ। সাধারণত একটি উপজাতির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি দেখা যায়। যথা:

১. নির্দিষ্ট বসতি এলাকা:

উপজাতিরা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় স্থায়ীভাবে বাস করে।

২. ঐক্যবোধ:

উপজাতিদের সংহতিবোধ অত্যন্ত দৃঢ়। উপজাতিদের মধ্যে পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। ঐক্যবোধের কারণেই তারা সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ থাকে।

৩. স্বতন্ত্র সংস্কৃতি:

উপজাতির পৃথক ও স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রয়েছে। এরা ঐতিহ্যপ্রিয় ও সহজসরল অথচ বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী।

৪. নির্দিষ্ট ভাষা বা উপভাষা:

প্রায় প্রতিটি উপজাতিরই নিজস্ব ভাষা বা উপভাষা রয়েছে। তবে অধিকাংশেরই ভাষার লিখিত কোনো রূপ নেই।

৫. টোটেম প্রথা:

উপজাতিদের মধ্যে টোটেম প্রথার প্রচলন রয়েছে। বর্তমান যুগেও টোটেম বিশ্বাস তাদের মধ্যে দৃঢ়।

৬. পরিবর্তন বিমুখ:

উপজাতিরা সাধারণত ঐতিহ্যবাহী জীবনধারায় অভ্যস্ত। পরিবর্তন বা আধুনিকায়নকে সহজেই তারা গ্রহণ করতে চায় না। তাই তাদের আশপাশে অন্য সমাজব্যবস্থাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসলেও তারা আধুনিকায়ন বা পরিবর্তনকে সহজে গ্রহণ করতে চায় না।

৭. প্রাচীন অর্থনীতি:

উপজাতীয়দের মধ্যে এখনো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অতটা জনপ্রিয় নয়। তারা এখনো পালাক্রম চাষ বা জুম চাষে অভ্যন্ত। তারা এখনো খাদ্য আহরণ ও শিকারের উৎপাদন কৌশলে অভ্যন্ত।

৮. পূর্বপুরুষে বিশ্বাস:

উপজাতীয় জনগণ একই পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে এমন একটি বিশ্বাস পোষণ করে। এ পূর্বপুরুষের রীতি-নীতি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, ধর্মীয় প্রথা ইত্যাদি তারা অবশ্য পালনীয় বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে।

পরিশেষে বলা যায়, উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোর জীবন জীবিকা, সামাজিক আচার, প্রথা সবকিছুতে একধরনের নির্দিষ্ট এবং বিচ্ছিন্ন জীবন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

জাতি ও উপজাতির মধ্যে পার্থক্যসমূহ

জাতি হচ্ছে এমন এক জনসমষ্টি, যারা একই ভাষা, ধর্ম, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক এলাকায় ঐক্য সূত্রে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে এবং অন্য কারো শাসন মানতে রাজি নয়। আর উপজাতি হচ্ছে দেশের অন্যান্য জাতি থেকে পৃথক পৃথক অঞ্চলে বসবাসে আগ্রহী এবং এদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে।

জাতি ও উপজাতির মধ্যে পার্থক্য: জাতি ও উপজাতির মধ্যে পার্থক্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

১. জাতি বলতে এমন একটি জনসমাজকে বোঝায়, যা রাজনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে আত্মত্মসচেতন ও সংগঠিত এবং স্বশাসনে রাষ্ট্রের মধ্যে নিজস্ব জাতীয় ঠিকানা সাধনে প্রয়াসী। অপরপক্ষে, উপজাতি বলতে এমন এক জনসমাজকে বোঝায়, যাদের একটি নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি রয়েছে এবং যারা মূল জাতি থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র মনে করে।

২. জাতি বলতে একটি রাষ্ট্রের সকল জনগণকে সম্পৃক্ত করে যার সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে জাতীয়তার ভিত্তিতে আত্মপরিচয় প্রকাশ করে। অন্যদিকে, উপজাতিরা রাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করে এবং এদের মধ্যে বিশেষ ঐক্যবোধ রয়েছে।

৩. জাতি হলো একটি সামগ্রিক ধারণা, এখানে সমগ্র জনগণ ঐ রাষ্ট্রের প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ভাষা, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ অনুসরণসহ আধুনিক সংস্কৃতির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে। অপরদিকে, উপজাতিদের নিজস্ব অতীত ঐতিহ্য রয়েছে এবং আধুনিক সংস্কৃতির বেড়াজাল থেকে তারা পাশ কাটিয়ে নিজস্ব ধ্যান-ধারণায় অভ্যস্ত হতেই বেশি পছন্দ করে। 

৪. জাতি হলো এমন একটি গোষ্ঠী, যারা জাতীয় পেশা তথা বিভিন্ন পেশা থেকে নিজস্ব পেশা পছন্দ করে জাতীয় প্রেক্ষাপটে সামাজিক, রাজনৈতিক ইস্যুকে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অপরদিকে, উপজাতিদের খাদ্যসংগ্রহ, কৃষিব্যবস্থা ও পশুপালন, অর্থনীতি রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন জাতীয় চেতনায় বিশ্বাসীদের থেকে ভিন্ন। 

পরিশেষে বলা যায়, জাতি ও উপজাতির মধ্যে উপর্যুক্ত পার্থক্য থাকলেও এরা একে অপরের পরিপূরক। জাতি না থাকলে যেমন উপজাতি মূল্যহীন ঠিক তেমনি উপজাতির সমষ্টি ব্যতীত জাতি গঠন সম্ভব নয়।

ভূমি অধিগ্রহণ বা উচ্ছেদকরণ প্রক্রিয়ার ফলাফল

ভূমি অধিগ্রহণ বা উচ্ছেদকরণ প্রক্রিয়ার ফলাফল বর্ণনা কর

ভূমিকা: কোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য যে ভূমির প্রয়োজন হয় তার সঠিক সংকুলানের নিমিত্তে অনেক সময়ে ভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে তাদের বসতবাড়ি হতে উচ্ছেদ করে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেই স্থান হতে মানুষকে বিতাড়ন করা হয় সেই ভূমি আগে থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হাত পারে বা অন্য সাধারণ জনগণের সম্পত্তি হতে পারে। এই সমগ্র প্রক্রিয়াকে ভূমি অধিগ্রহণ বলা হয়।

ভূমি অধিহগ্রহণ বা উচ্ছেদকরণ প্রক্রিয়ার ফলাফল


ভূমি অধিগ্রহণ বা উচ্ছেদকরণ প্রক্রিয়ার ফলাফল

নিম্নে ভূমি অধিকগ্রহণ বা উচ্ছেদকরণ প্রক্রিয়ার ফলাফলসমূহ তুলে ধরা হলো।

১. সামাজিক সংগঠনের ভাঙন:

উচ্ছেদকরণ প্রক্রিয়ায় সব থেকে বড় নেতিবাচক প্রভাবটি হলো বিদ্যমান সামাজিক প্রতিষ্ঠাগুলোকে ভেঙে ফেলা। কোনো একটি স্থানে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে যখন উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে উচ্ছেদকরণ করা হয় তখন তাদের বিভিন্ন সামাগ্রিক সম্পর্ক এবং জাতিসৎম্পর্কের বন্ধন ছিন্ন করে তাকে উৎখাত করা হয়। উন্নয়নের জন্য যখন ভূমি অধিগ্রহণের নোটিশ দেয়া হয় তখনই বসবাসকারী জনগণ একধরনের অস্থির হতাশাজনক পরিস্থিতিতে পড়েন। নতুন পরিস্থিতিতে একেকজন এক একভাবে আপ্ত হবে।

২. সংখ্যালঘু আদিবাসী এবং উপজাতীয় সংস্কৃতি বিনষ্ট:

সাধারণত বেশিরভাগ সময়ে নগরের উপকণ্ঠে অথবা নগরের বাইরে অথবা দেশের প্রান্তিক বিভিন্ন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এলাকায় উপজাতীয় এবং আদিবাসীবিশিষ্ট সংস্কৃতি এবং নৃতাত্তিক গোষ্ঠীসমূহ অবস্থান করে। এই প্রকার অবস্থান কয়েক প্রজম্ম ধরে বজায় থাকায় ঐ স্থানের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে উপজাতীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীসমূহের বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই আন্তঃসম্পর্কের গভীরতা এদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাজের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে। অনেক সময় সগর উপকন্ঠের এসর স্থানে মানববসতি কম বলে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বা বিভিন্ন নাগরিক বিনোদন-কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এসব এলাকাগুলো নির্বাচন করা হয়।

৩. বনভূমি ধ্বংস:

অনেক সময়ে নগর, নগরের উপকষ্ঠ এবং উপনগরগুলোতে ঘনবসতি থাকায় অথবা সংখ্যাগুরু শ্রেণীর অবস্থান থাকার কারণে এসব স্থানে উন্নয়ন প্রকল্পায়ন রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়। অপেক্ষাকৃত কম জনগোষ্ঠীর আবাস বনভূমিকে ধংস করে তাতে উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করে সরকারের নিকট অনেক সময় কম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়। কারণ বনভূমির জন্য কোনোভাবেই এখানে ঘনবসতি গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই উন্নয়ন প্রকল্প চালনা করা হলে অপেক্ষাকৃত কম মানুষকে বিতাড়ন বা উচ্ছেদকরণ করতে হবে। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বনভূমির বন ধ্বংস করে পাওয়া বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে করাই অনেক বেশি শ্রেয়তর মনে করা হয়। উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদরা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য বনভূমিকে বেছে নেন। এভাবে যদিও বনভূমির মানববসতি উচ্ছেদ করে এবং তাদের জীবনকে নিরাপত্তাহীনতায় পর্যবসিত করা হয় এবং দেশের জন্য প্রয়োজনীয় শতাংশে বনভূমি কমে যায়।

৪. কৃষিভূমি ধংস:

তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে প্রচুর জনসংখ্যার জন্য ঘনবসতি দেখা যায়। এই ঘনবসতির দেশে অপেক্ষাকৃত ফাঁকা এলাকাগুলোর বেশিরভাগই কৃষিভূমি, যেখানে খাদ্যশস্যের আবাদ হয়। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ফাঁকা স্থানের সন্ধানে পরিকল্পনাবিদদের বিবেচনায় প্রাধান্য পায় বনভূমি এবং এর পরেই কৃষিভূমি। ব্যাপক আয়তনের কৃষিভূমি অধিগ্রহণ করে উন্নয়ন প্রকল্প করার ফলে কৃষিকাজের সাথে সাথে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এই ধরনের প্রকল্পায়নের জন্য স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্যশস্যের অভার ঘটে। ফলে দেশে দুর্ভিক্ষও দেখা যেতে পারে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রভাবে পরোক্ষভাবে খাদ্য অনিশ্চয়তার কারণ হিসেবে কাজ করে।

৫. পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি:

অনেক সময়ে এসব জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব পরিবেশ নির্ভর জীবিকায়নের জন্য এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, যা পক্ষান্তরে পরিবেশের উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায়নে সহায়ক হয়।কিন্তু এই জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে দেয়ার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশে শূন্যতা তৈরি হয় তেমন উন্নয়নকেন্দ্রিক বিভিন্ন সামগ্রী আনয়ন এবং অনুষ্ঠানিক  বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিবেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে। অনেক সময় এভাবে পরিবেশের যে ক্ষতিসাধন হয় তা আর কখনোই পুশিয়ে নেয়া সম্ভব হয় না। এভাবে পরিবেশের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদকরণ সরাসরি একটি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

৬. দারিদ্র্যকরণ:

Michael Karhea তার আলোচনায় দেখান যে, উন্নয়ন প্রকল্পের কতগুলো ফলাফল বিশাল জনগণের দারিদ্রকরণে ভূমিকা রাখে। তার মতে, বিশাল এলাকার ভূমি অধিগ্রহণ করায় কৃষি ভূমি বিনষ্ট হয়, বেকারত্ব সৃষ্টি হয় খাদ্যনিরাপত্তা বিনষ্ট হয় এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। এই প্রতিটি বিষয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের জীবাস দারিদ্র ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বেশিরভাগ সময়ে এই ধরনের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় যে ন্যূনতম ক্ষতিপূরণ দেবার ব্যবস্থা হয় তা বিভিন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা ভোগ করেন। আবার উন্নয়ন কাজের সময় কিছু মধ্যস্বত্বভোগী সম্প্রদায় উদ্বৃত হন যারা মূলত উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং জনগোষ্ঠীর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে নিজের অর্থবিত্তের মালিক হবার চেষ্টা করেন। ফলে তারা সাধারন জনগণকে বেশি দারিদ্র্য করতে সরাসরি ভূমিকা পালন করেন।

Koeng (1991) দেখান যে, অনেক সময়ে ভূমি অধিকগ্রহণ করার পর উৎপাটিত জনগোষ্ঠীর মধ্য হতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়োগ দেয়া হয়। এই প্রকার নিয়োগ দেয়ার ফলে তার কর্ম তৈরি হলেও যেহেতু তার আবাসন উৎপাটন করা হয়েছে, নতুন বাসস্থান আর নিকটবর্তী থাকে না। হয়তো তা অন্য জেলা ব অনেক বেশি দূরত্বে থাকে তখন তার পক্ষে প্রতিদিন কর্মক্ষেত্র আগমন সম্ভব হয় না, ফলে তার পক্ষে চাকরি চালানো সম্ভব হয় না।  এভাবে উন্নয়ন বিতাড়নের ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাকরি দেয়া হলেও কার্যত তা জনগণের বেকারত্ব রোধে খুব বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে না।

৭. খাদ্য নিরাপত্তা বিনষ্ট:

উন্নয়ন পরিকল্পনার নাম ব্যাপকায়ন কৃষিভূমি অধিগ্রহণ এর ফলে খাদ্য উৎপাদনের জন প্রয়োজনীয় ভূখণ্ড হ্রাস পায়। ফলে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুধীন হয়। আবার হঠাৎ উৎখাত হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে বেকারত্ব এবং অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যার তীব্রতা দেখা যায়, যা তাদের খাদ্য ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ক্রয়ক্ষমতার অভাবে নূন্যতম প্রয়োজনীয় খাদ্যের সংকুলান করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

৮. নারী ও শিশুর অবস্থা বিপর্যয়:

নারী ও শিশু প্রায় প্রতিটি সমাজে একধরনের ঝুঁকির অবস্থায় থাকে। হাস অধিগ্রহণের ফলে যে তীব্র খাদ্য ঝুঁকি এবং বেকারত্বের ঝুঁকি উদ্বৃত দারিদ্র্যকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার সরাসরি প্রতিফলন ঘটে নারী ও শিশুর অবস্থা বিপর্যয়ের মধ্যে। অনেক সময় নারীরা বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন  নির্যাতনের শিকার হন। হঠাৎ গৃহহীন এবং নির্ভরতাহীন হয়ে পড়ায় এসব নারী অনেক গ্রাম্য দালাল-ফড়িয়াদের সহজ শিকারে পরিণত হন।

৯. সার্বিক মানবিক বিপর্যয়:

খাদ্যবস্তু, বাসস্থান শিক্ষাকে ন্যূনতম মানবিক চাহিনা মনে করা হয়। এই চার চাহিদার পুরণ নাগরিকদের জন্য করা রাষ্ট্র এবং সরকারের অন্যতম দায়বোধের মধ্যে পড়ে। বেশির ভাগ সময়ে সমগ্র উন্নয়ন প্রক্রিয়া রাষ্ট্র এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে হয়। বেসরকারি পর্যায়ে উন্নয়ন হলেও তা রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়। অধিগ্রহণ এর স্থানের মানুষদের সবধরনের মানবিক দাবিকে রাষ্ট্র নিজেই অস্বীকার করে এবং কেউ এই দাবি তুললে তাদেরও দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। একদিকে দারিদ্র্যকরণ, অন্যদিকে দারিদ্র্যকরণ প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করায় রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া তীব্র মানবিক বিপর্যয়কে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে।

১০. সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিপর্য:

গৃহহীনতা, দারিদ্র্য এই বিষয়গুলো উৎপাটিত মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তাহীনতা, নির্ভরতাহীনতা, অবিশ্বাস এবং হতাশা বোধ তৈরী করে। ফলে সমাজের মধ্যে থেকেও এদের মধ্য স্ববিরোধী বিচ্ছিন্নতাবোধ ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে, যার ফলে এই জনপদের অনেক মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকে সমাজ বহির্ভূত অংশ হিসেবে ভাবতে থাকে এরা নানা ধরনের অসামাজিক কাজ করেন। অর্থাভাব ও বেকারত্ব থেকে বাঁচার জন্যও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েন।

১১. উন্নয়নের সার্বিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধকরণ:

সমাজে যারা অবনত এবং খারাপ অবস্থায় আছে তাদের অবস্থা আলো করার জন্যই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো প্রণীত হয়। যেমন- কর্মসুযোগ সৃষ্টি, জীবন,সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষায়ন ইত্যাদির জন্য উন্নয়ন প্রকল্প করা হয়। কিন্তু উৎপাটন বা উচ্ছেদকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যক জনগণের মধ্যে বেকারত্ব সৃষ্টি, দারিদ্র্যকরণ এবং সমাজ বিচ্ছিন্নকরন ঘটানো হয়। ঐ থেকে প্রশ্ন হয় আদৌ এই উন্নয়ন দরিদ্র বা অবনত অংশের উন্নয়ন নাকি মোটামুটি সাচ্চল অংশের দরিদ্রকরণ।

উপসংহার: উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, যত বেশি উন্নয়ন প্রক্রিয়া অগ্রসর হয় তত বেশি বিভিন্ন কারণে আরো বেশি ভূমির প্রয়োজন হতে থাকে। ফলে অধিগ্রহণকৃত ভূমির আশপাশের স্থানগুলোও ধীরে ধীরে আরো বেশি করে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে থাকে। ফলে সেসব এলাকার মানুষ স্থানান্তকরণে বাধ্য করা হয়। এভাবে ভূমি অধিকগ্রহণ আরো ব্যাপকতর প্রভাবে সমাজকে প্রভাবান্বিত করতে থাকে।